শিক্ষাসমাজ

রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞা দাও – রাষ্ট্র কেন গঠিত হয় উদ্দেশ্য বিষয়বস্তু কী

রাষ্ট্র একটি রাষ্ট্র স্বাধীনতা, সরকার, নির্বাচন, সমাজসেবা, আইন ও শৃংখলা, আর্থিক ব্যবস্থা এবং বাহ্যিক রাষ্ট্রিক সম্পর্কগুলির সংগঠনগুলির মধ্যে গঠিত থাকে।

Table of Contents

রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞা

রাষ্ট্র একটি সরকার অথবা স্বাধীন একটি প্রজাতন্ত্রিক অথবা একটি রাজনৈতিক অঞ্চলের মূল স্বত্বাধিকারী পরিচালক সংগঠন বা স্বাধীন একটি দেশকে বুঝায়।

এটি সাধারণত একটি নির্দিষ্ট জমি সীমানা, জনসংখ্যা, সরকার ও স্বাধীনতার পরিবেশে অবস্থিত থাকে।

একটি রাষ্ট্র স্বাধীনতা, সরকার, নির্বাচন, সমাজসেবা, আইন ও শৃংখলা, আর্থিক ব্যবস্থা এবং বাহ্যিক রাষ্ট্রিক সম্পর্কগুলির সংগঠনগুলির মধ্যে গঠিত থাকে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান একটি শাখা যা মানবিক সমাজে রাষ্ট্র, সরকার, রাজনীতি এবং তাদের সম্পর্কে পরিবেশ্যা করে। এটি প্রধানত

  • রাষ্ট্র এবং তার বিভিন্ন নীতি,
  • প্রশাসন,
  • সংবিধান,
  • নির্বাচন প্রক্রিয়া,
  • অর্থনীতি,
  • মতামত গঠন,
  • আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং রাষ্ট্রপতি,
  • প্রধানমন্ত্রী,
  • নেতৃত্ব, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইত্যাদির উপর গবেষণা করে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান আরও

  • রাষ্ট্রবাদ,
  • রাষ্ট্রনীতি,
  • ন্যাশনালিজম,
  • ইন্টারন্যাশনালিজম,
  • সমাজবাদ,
  • কমিউনিজম,
  • রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি,

রাষ্ট্রীয় নীতি ইত্যাদির সাথে সম্পর্কিত অনেকগুলি সাবজেক্ট শিখায়।

এরিস্টটলের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞা

এরিস্টটলের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞা বা বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা যায় না, কারণ এরিস্টটলের সংঘটিত কাজের মধ্যে রাষ্ট্রবিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট একটি বিশেষ বিষয় হলেও এটি একটি পূর্বাচার্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিষয় নয়।

তবে, এরিস্টটল প্রায়শই রাজনীতি এবং সমাজবিজ্ঞানের মাধ্যমে রাষ্ট্র এবং সংস্কৃতির বিষয়ে লেখা করেছেন।

তাঁর কাজের মধ্যে রাষ্ট্র এবং শাসনের সুতরাং সম্পর্কিত মানুষের স্বাভাবিক সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কে অন্যান্য ধারণাগুলি আছে।

তাঁর গ্রন্থ ‘নীতি’ বা ‘নীতি শাস্ত্র’ রাষ্ট্র এবং শাসনশক্তির মাধ্যমে একটি স্থায়ী এবং উন্নত সমাজের উপযোগিতা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত আলোচনা করে।

এছাড়াও তাঁর কাছে রাষ্ট্র এবং শাসনের মাধ্যমে মানুষের সুখ-সুরক্ষা এবং সামাজিক সম্পর্কের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা উচিত।

সুতরাং, এরিস্টটলের কাজের মধ্যে রাষ্ট্রবিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট একটি বিশেষ বিষয় হলেও এর প্রাথমিক বা নির্দিষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করা নেই।

এরিস্টটলের রাষ্ট্রবিজ্ঞান সম্পর্কে ব্যাখ্যা 

এরিস্টটল একজন প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক, পলিটিক্স এবং নীতিশাস্ত্র বিষয়ে অনেক প্রভাবশালী ছিলেন।

তিনি একটি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রবিজ্ঞান সিদ্ধান্ত নির্মাণ করেন নি, কিন্তু তাঁর কাজে রাষ্ট্র, শাসনশক্তি, সমাজবিজ্ঞান, নীতি ও নীতিশাস্ত্রের মধ্যে অনেক গভীর সম্পর্ক ছিল।

এরিস্টটলের বিচারে রাষ্ট্র একটি প্রাকৃতিক সংগঠন যা মানুষের সামাজিক জীবন নির্ধারণ করে।

তিনি মনে করেন যে, রাষ্ট্র মানুষের সামাজিক ও সংস্কৃতির উন্নতি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয়।

রাষ্ট্র একটি সামরিক, সামাজিক এবং মরামমত সংগঠন যার মাধ্যমে ন্যায় ও শাসনের ব্যবস্থা স্থাপিত করা হয়।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান এরিস্টলের কাজে রাষ্ট্রের স্বাভাবিক কার্য, শাসনশক্তির উপযোগিতা, শাসকের দায়িত্ব এবং রাষ্ট্র ও সমাজের সংযোগস্থল উল্লেখ করা হয়।

এরিস্টটল মনে করতেন যে একটি ভাল রাষ্ট্র সমাজের ন্যায়, শাসনশক্তির বিভিন্ন কার্যকারিতা এবং মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

রাষ্ট্র ও শাসনশক্তির কর্তব্য হল সমাজকে ন্যায়পরায়ণ, শাসনশক্তির বিভিন্ন কার্যকারিতা সম্পাদন এবং মানুষের জীবনে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

তিনি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় পদার্থ ও রাষ্ট্রীয় উপায়ের প্রভাব নিরূপণ করেন এবং স্বাধীনতা, সামরিক কার্যকলাপ, শাসনশক্তির অবস্থান এবং সরকারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

সুতরাং, এরিস্টটলের রাষ্ট্রবিজ্ঞান

  • সামাজিক সংগঠন,
  • শাসনশক্তি,
  • ন্যায় ও সুরক্ষার

প্রশ্নগুলি উপেক্ষা করা ছাড়াই মানুষের সামাজিক ও রাষ্ট্রিক জীবনের উন্নতির কারণে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়।

রাষ্ট্র বিজ্ঞানের সংজ্ঞা দাও

রাষ্ট্র বিজ্ঞান হলো একটি প্রশাসনিক বিজ্ঞান যা রাষ্ট্র ও সরকারের গঠন, কার্যক্রম, নীতি ও ব্যবস্থাপনার সম্পর্কে অধ্যয়ন করে।

এটি সাধারণত রাষ্ট্র প্রশাসন, প্রশাসনিক কার্যক্রম, নীতি নির্ধারণ, কর্মকর্তা ব্যবস্থাপনা, ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সমস্যার বিষয়ে পরামর্শ ও সমাধান নিয়ে কাজ করে।

রাষ্ট্র বিজ্ঞান অন্যতম সরকারের সংস্থাগুলি এবং সংস্থাপনের উপর বিচার ও বিশ্লেষণ করে, রাষ্ট্রের সামরিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে পরামর্শ ও নীতি নির্ধারণ করে,

নাগরিক সংস্থার সাথে যোগাযোগ ও সম্পর্ক রক্ষা করে এবং সাধারণ মানুষের সাথে সরকারের কার্যক্রম ও নীতির প্রভাব নিয়ে অধ্যয়ন করে।

রাষ্ট্র বিজ্ঞান অন্যতম সরকারি পদাধিকারগুলি, সরকারি নীতি নির্ধারণ, সরকারি প্রশাসন, সরকারি ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক সমস্যা ও সমাধান, লোকশাহী এবং সরকারের সংবিধান বিষয়ে গবেষণা ও পরামর্শ সম্পর্কিত।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রকৃতি ও পরিধি আলোচনা করো

রাষ্ট্রবিজ্ঞান এটি একটি বিশেষ অধ্যায় যা নির্দিষ্ট সামাজিক ও রাজনৈতিক পদ্ধতিগুলির বিশ্লেষণ ও আলোচনা করে।

এটি মানুষের সংগঠিত সমাজের নির্দিষ্ট গঠন, শাস্তি এবং নীতিমালা নিয়ে আলোচনা করে।

এটি সাধারণত সরকারের বিভিন্ন বিভাগগুলির কার্যক্রম এবং তার পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করে, যা রাষ্ট্র শাসন ও নির্দেশনা দেয়।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য আমরা সাধারণত চারটি প্রশ্নের উপর কেন্দ্র করি:

  • রাষ্ট্রবিজ্ঞানে রাষ্ট্রের পরিভাষা কী?
  • রাষ্ট্র কেন গঠিত হয়?
  • রাষ্ট্রের প্রকৃতি কী?
  • রাষ্ট্রের প্রকৃতির মূলভূত উদ্দেশ্য কী? 
  • রাষ্ট্রবিজ্ঞানে রাষ্ট্রের পরিভাষা কী?

রাষ্ট্রবিজ্ঞানে, রাষ্ট্র প্রধানতঃ একটি ক্ষমতাসম্পন্ন সংস্থা বা সরকারসমূহ যা একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে সমাজসংঘের উন্নতি, সুরক্ষা এবং পরিচালনা নিয়ে দেখার জন্য গঠিত হয়।

রাষ্ট্র সাধারণত কয়েকটি সাধারণ উদ্দেশ্যের জন্য গঠিত হয়, যেমন নাগরিকদের সুরক্ষা, যৌন শাস্তি বা অপমান থেকে রক্ষা, বিভিন্ন সেবার প্রদান এবং ন্যায্যতা নিশ্চিত করা।

রাষ্ট্র কেন গঠিত হয়

রাষ্ট্রের গঠনের পিছনে একটি মৌলিক উদ্দেশ্য হল সামাজিক ন্যায্যতা নিশ্চিত করা।

এটি সাধারণত সমাজের নিয়ম ও শাস্তি প্রয়োগ করে ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে থাকে, যাতে সমাজের অন্যান্য সদস্যরা একই উপায়ে বাস্তবায়ন করতে পারেন।

রাষ্ট্র সমাজের সমর্থন প্রদান করে যাতে সামাজিক পরিচালনা এবং সুরক্ষা সম্পন্ন হয়, যা ব্যক্তিগতভাবে অসম্প্রসারণ করা কঠিন হতে পারে।

রাষ্ট্র আরো কয়েকটি উদ্দেশ্য সম্পন্ন করে, যেমন সুরক্ষা, যৌন শাস্তি ও অপমান থেকে রক্ষা, বিভিন্ন সেবার প্রদান এবং ন্যায্যতা নিশ্চিত করা।

রাষ্ট্রের প্রকৃতি কী

রাষ্ট্রের প্রকৃতি একটি কমপক্ষে সংঘটিত ও সংজ্ঞায়িত কর্মসূচি বা পদ্ধতি বোঝায় যা সরকার ও অন্যান্য সংস্থাগুলি ব্যবহার করে রাষ্ট্রব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণত পূর্ণ করা হয়।

এটি রাষ্ট্রের কার্যক্রম, সরকার ও প্রশাসনিক পদ্ধতি, সমাজসংঘ, নীতি নির্ধারণ, শাস্তিসাধন ও ন্যায্যতা প্রদান সম্পর্কিত সকল দিক বা

আয়োজনের বিবরণ সংক্রান্ত অনেক জিনিস শামিল করে।

রাষ্ট্রের প্রকৃতির মূলভূত উদ্দেশ্য কী

রাষ্ট্রের প্রকৃতির মূলভূত উদ্দেশ্য হল সামাজিক ন্যায্যতা, সুরক্ষা এবং সমাজের উন্নতি নিশ্চিত করা।

এটি সাধারণত রাষ্ট্র এবং সরকারের প্রাথমিক দায়িত্ব। রাষ্ট্র একটি ন্যায্য ও শাস্তিপ্রদ সংস্থা হিসাবে কাজ করে, নাগরিকদের সুরক্ষা ও সমতা নিশ্চিত করে, ব্যক্তিগত ও সামাজিক উন্নয়ন সমর্থন করে, যাতে সমাজের সদস্যরা ন্যায্যভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু আলোচনা কর

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়টি রাষ্ট্র বা সরকার নির্ধারিত বিষয়ের মধ্যে পড়ে যায়, যা সাধারণত রাষ্ট্রের

  • গঠন,
  • কর্তৃপক্ষ,
  • নীতিমালা,
  • শাসন পদ্ধতি,
  • রাষ্ট্রগত সংগঠন,
  • অর্থনীতি,
  • বিদেশ নীতি,
  • রাষ্ট্রগত সুরক্ষা,

আইন ও বিচারপতি বিষয়গুলি সংক্রান্ত তথ্য ও পরিচালনা নিয়ে কাজ করে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান আমরা যা বলি তার ভিত্তি হলো সামাজিক বিজ্ঞানের একটি শাখা।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করা হয়, যেমন:

রাষ্ট্রের গঠন: এই বিষয়টি আলোচনা করে যেমন রাষ্ট্রের সাংঘাতিক বিভাজন, শাসনতন্ত্র, মহাকর্ষ শাসন পদ্ধতি ইত্যাদি।

রাষ্ট্রের শাসনপদ্ধতি: এই বিষয়টি রাষ্ট্রের শাসনপদ্ধতির বিভিন্ন মডেল ও তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করে, যেমন পার্লিয়ামেন্টারি ও প্রেসিডেনশিয়াল শাসনপদ্ধতি।

রাষ্ট্রের নীতিমালা: এই বিষয়টি রাষ্ট্রের নীতিমালা নিয়ে আলোচনা করে, যেমন আর্থিক নীতিমালা, বাহ্যিক নীতিমালা, পরিবেশ নীতিমালা ইত্যাদি।

রাষ্ট্রের বিদেশ নীতি: এই বিষয়টি রাষ্ট্রের বিদেশ নীতি, যেমন বৈদেশিক সম্পর্ক, রাষ্ট্রগুলির মধ্যে সংঘবদ্ধতা ও সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে।

রাষ্ট্রের সুরক্ষা: এই বিষয়টি রাষ্ট্রের সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা করে, যেমন সামরিক বাহিনী, জাসুসি ও গোপন সেবা, সাইবার নিরাপত্তা ইত্যাদি।

এইভাবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু আলোচনা করা হয় এবং এটি সমাজজীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় তা প্রদর্শন করা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button